কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন রাজ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দল ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পোস্টে তিনি সংগঠন ও ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের কারণগুলো বিস্তারিতভাবে লেখেন এবং দলের সঙ্গে তার অতীত ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
রিপন পোস্টে জানিয়েছেন যে তিনি ছাত্র, যুব ও শ্রমিক ইউনিটসহ গণ অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে আর কোনো সম্পৃক্ততা রাখছেন না। তিনি লিখেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (নুর ভাই) ও তার নীতি-আদর্শকে সম্মান করে রাজনৈতিকভাবে তরুণ সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, ন্যায়ভিত্তিক আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং দেশের সংকটে উদার মনোভাব বজায় রেখেছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের প্রতি তার ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতাও তিনি প্রকাশ করেন।
পোস্টে রিপন আরও বলেছেন যে সংগঠনের হাত ধরেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু; উপজেলা স্তরে কর্মীদের সংগঠন করে তিনি শুন্য থেকে টেকসই ইউনিট গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এবং দীর্ঘ পথে মূল্যবান সময়, মেধা ও শ্রম দিয়েছেন। তিনি যদি সংগঠনের কার্যক্রমে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে কোথাও বিতর্কিত আচরণ, অন্যায় বা আর্থিক লেনদেন করে থাকেন তবে প্রকৃত তথ্যসহ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।
পদত্যাগের কারণগুলো তিনি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন —
1. ছোট একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে গ্রুপিং, প্রতিহিংসা ও হুমকি-ধামকি; দলের শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য নষ্ট করে এমন অন্তর্কলহ তাকে ব্যথিত করেছে।
2. ন্যূনতম সম্মান না পাওয়া; একটি প্ল্যাটফর্মে সম্মান না থাকলে সেখান থেকে সরে আসাই শ্রেয় বলে মনে করেন।
3. কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যাদের হাত ধরে সংগঠন গঠিত হয়েছিল, তাঁদের অধিকাংশ আজ দলের সঙ্গে নেই — এ বিষয়ে আগেও অনুসন্ধান করলেও সন্তোষজনক উত্তর পাননি।
4. সিনিয়রদের কাছ থেকে দলীয় ব্যাপারে সহায়তার অভাব — যথাযথ সমর্থন না পেয়ে হতাশ বোধ করেছেন।
রিপন পোস্টে বলছেন, এসব ছাড়াও কিছু বিষয় ধাপে ধাপে প্রকাশ করবেন (ইনশাআল্লাহ)।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমন খান বলেন, তিনি এখনো অফিসিয়ালি কোনো পদত্যাগপত্র জমা তবে রিপনের ফেসবুক আইডিতেম এমন একটি পোস্টটি দেখেছি।
