ঢাকামঙ্গলবার , ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  1. অষ্টগ্রাম
  2. ইটনা
  3. কটিয়াদী
  4. করিমগঞ্জ
  5. কুলিয়ারচর
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. তাড়াইল
  9. নিকলি
  10. পর্যটন
  11. পাকুন্দিয়া
  12. বহির্বিশ্ব
  13. বাজিতপুর
  14. বিনোদন
  15. ভৈরব
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হয়বতনগর কামিল মাদ্রাসায় উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ ও পিঠা উৎসব উদযাপন

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্যকে লালন ও প্রসারের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক হয়বতনগর এ ইউ কামিল মাদ্রাসার উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে বর্ষবরণ ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী এ বর্ণিল অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। পিঠা উৎসবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টলে গ্রামবাংলার পরিচিত ও বিলুপ্তপ্রায় নানা ধরনের মুখরোচক পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মোঃ আনিসুজ্জামান বাবুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন, মুফাসসির; মাওলানা আলী আহসান মোঃ মুজাহিদ; মাওলানা জহিরুল ইসলাম; মাওলানা আবু হানিফাসহ আরও অনেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ উৎসবের রঙে রাঙানো। দুধকুলি, ক্ষীরকুলি, তিলকুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুড়ি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠা, মালাই পিঠা, মালপোয়া, পাকন পিঠা, ঝাল পিঠাসহ শতাধিক ধরনের পিঠার আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। অতিথিরা মাটির পাত্রে পছন্দের পিঠা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে বসে উপভোগ করেন। শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থী নয়, স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষও এ উৎসবে ভিড় করেন।

উৎসবে আসা তানজিনা আক্তার সেতু বলেন, “পিঠা মানেই শীতকাল—এমন ধারণা থাকলেও পহেলা বৈশাখে পিঠার এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে পূর্ণতা দিয়েছে। এত সুন্দর আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।”

ফাজিল ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফিফা ইরিন বলেন, “মাদ্রাসার পরিবেশে এমন উৎসব আমাদের জন্য দারুণ আনন্দের। পড়াশোনার পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে জানতে পারছি।”

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিফ হোসাইন বলেন, “এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য আমরা প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই। এই আনন্দময় পরিবেশ আমাদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন থাকবে।”

প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতি তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ভবিষ্যতেও আমরা এমন আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই।”

প্রধান অতিথি মো. আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, “এই ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির চর্চায়ও যে সমানভাবে এগিয়ে, এই উৎসব তারই প্রমাণ।”