Kishoreganj Press

৮৪ ঘণ্টায় ১৭ লাখ, ৭০০ বছরের অদেখা দানকে দৃশ্যমান করে বীরদর্পে ফিরছেন ডিসি সারওয়ার

আসলেন, জয় করলেন, চলে গেলেন। এমনই এক প্রশংসনীয় ঘটনার জন্ম দিয়ে ফিরছেন সিলেটের ডিসি, কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান সারওয়ার আলম। সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের পরিমাণ কত, তা বিগত ৭০০ বছর ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। বিষয়টি ডিসি সারওয়ার আলমের নজরে এলে তিনি এটি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে সিলগালা করে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেন। ফলে দ্রুত সুবিধাবাদী লোকজনের রোষানলে পড়তে হয়।প্রত্যাহারের ঘোষণার একদিন পরই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নিলেন সিলেটের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। দীর্ঘদিনের একটি সিস্টেমের বুকে হাত দিয়ে তিনি সিলেটের জনগণের মন জয় করে নিয়েছেন।শাহজালাল মাজারে ৩ দিনে আধা বেলা মোট ৮৪ ঘন্টায় ১৭ লাখ ৫৯ হাজাট টাকা জমা পড়েছে। স্বর্ণ, রৌপ্য, ছাগল- হাস- মোরগ ইত্যাদি ছাড়া। ৮ দানবাক্স থেকে ১৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫ শত ৪৯ টাকা পাওয়া যায়৷ অল্পতেই তিনি সিলেটের শত শত বছরের ঐতিহ্যের অংশীদার হলেন। এখন থেকে জনগণ স্বচ্ছ হিসাব বুঝতে পারবে, এমনটাই আলোচনা চারদিকে।মাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, শত শত বছরের প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হলো।সোমবার (২২ জুন) দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন সারওয়ার আলম। সেখানে মাজারের দানের দুটি ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপিত দানবাক্স থেকে টাকা বের করে গণনা শুরু করা হয়। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।তবে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি সারওয়ার আলম। পরে তিনি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দান সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়।বিদায়ের আগে হিন্দু ব্যক্তিকে নিজের টাকায় কারামুক্ত করলেন ডিসি সারওয়ার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।এদিকে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা চলছে।সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁর সমর্থকেরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।বিক্ষোভকারীদের ভাষ্যমতে, সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সারওয়ার আলম সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁকে সরানোর পেছনে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।সকালে কার্যালয়ে প্রবেশের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন সারওয়ার আলম। তাঁদের স্লোগানের মধ্য দিয়েই তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। দুপুরে কার্যালয় থেকে বের হয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন।উল্লেখ্য, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে সিলেটে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই বিদায়ী জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার এই উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

৮৪ ঘণ্টায় ১৭ লাখ, ৭০০ বছরের অদেখা দানকে দৃশ্যমান করে বীরদর্পে ফিরছেন ডিসি সারওয়ার