Kishoreganj Press

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের এক অধ্যায়

আজ ৩০ মে। বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল, যার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে অনুভূত হয়েছে।বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রতীকী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব ও বীরত্ব দেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং শাসনব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও আদর্শের মানুষের জন্য রাজনীতির দুয়ার উন্মুক্ত করেন এবং নির্বাচনী রাজনীতিকে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করেন।১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নতুন মাত্রা দেয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণাও দেশের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় একটি স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করে।তবে ইতিহাসের মতোই জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনও বিতর্কমুক্ত নয়। তাঁর শাসনামল নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কিন্তু বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবন, নির্বাচনী রাজনীতির ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।শাহাদাতবার্ষিকীতে শহিদ জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করার অর্থ কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে অনুধাবন করা। দেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করাই হতে পারে তাঁর স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।এমএআই/

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের এক অধ্যায়