কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অসহায় ও দরিদ্র নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ২৩ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে ডু সামথিং ফাউন্ডেশন।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের পোড়াবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্বাচিত ২৩ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন ভয়েস অব পাকুন্দিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজকর্মী এস এম রায়হান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, উপকারভোগী নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পিছিয়ে পড়া ও সামর্থ্যহীন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। বিশেষ করে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, এতিম ও দুস্থ শিশুদের সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সেলাই মেশিন পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন উপকারভোগী নারীরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের কারণে আয়মুখী কাজ শুরু করতে পারছিলেন না। এই সহায়তা তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
উপকারভোগী আমেনা বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। সেলাই মেশিন কেনার সামর্থ্য ছিল না। এখন ঘরে বসে কাজ করে আয় করতে পারব, যা সংসার চালাতে ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়ক হবে।”
সোনিয়া আক্তার বলেন, “সেলাইয়ের কাজ শিখলেও মেশিন না থাকায় কাজে লাগাতে পারিনি। আজকের এই সহায়তা আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।”
ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “এখন আমি নিজেও আয় করতে পারব, যা পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে।”
হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, “সমাজের অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। ভয়েস অব পাকুন্দিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজকর্মী এস এম রায়হানের এই মানবিক কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। একজন নারী ঘরে বসে আয় করতে পারলে পুরো পরিবারের জীবনমান উন্নত হয়।”
এস এম রায়হান বলেন, “শুধু দান নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনে। একজন নারী স্বাবলম্বী হলে তার পরিবারও উপকৃত হয়। সেই ভাবনা থেকেই অসহায় নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে আয় করে জীবনযাপন করতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, ডু সামথিং ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন, এতিম শিশুদের সহযোগিতা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ নানা সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগী ২৩ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের সফল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অসহায় ও দরিদ্র নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ২৩ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে ডু সামথিং ফাউন্ডেশন।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের পোড়াবাড়িয়া গ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্বাচিত ২৩ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন ভয়েস অব পাকুন্দিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজকর্মী এস এম রায়হান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, উপকারভোগী নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পিছিয়ে পড়া ও সামর্থ্যহীন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। বিশেষ করে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, এতিম ও দুস্থ শিশুদের সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সেলাই মেশিন পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন উপকারভোগী নারীরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের কারণে আয়মুখী কাজ শুরু করতে পারছিলেন না। এই সহায়তা তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
উপকারভোগী আমেনা বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। সেলাই মেশিন কেনার সামর্থ্য ছিল না। এখন ঘরে বসে কাজ করে আয় করতে পারব, যা সংসার চালাতে ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়ক হবে।”
সোনিয়া আক্তার বলেন, “সেলাইয়ের কাজ শিখলেও মেশিন না থাকায় কাজে লাগাতে পারিনি। আজকের এই সহায়তা আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।”
ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “এখন আমি নিজেও আয় করতে পারব, যা পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে।”
হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, “সমাজের অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। ভয়েস অব পাকুন্দিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজকর্মী এস এম রায়হানের এই মানবিক কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। একজন নারী ঘরে বসে আয় করতে পারলে পুরো পরিবারের জীবনমান উন্নত হয়।”
এস এম রায়হান বলেন, “শুধু দান নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনে। একজন নারী স্বাবলম্বী হলে তার পরিবারও উপকৃত হয়। সেই ভাবনা থেকেই অসহায় নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে আয় করে জীবনযাপন করতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, ডু সামথিং ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন, এতিম শিশুদের সহযোগিতা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ নানা সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগী ২৩ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের সফল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন