Kishoreganj Press

ভিডিও করায়

রোগীর স্বজনকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি



রোগীর স্বজনকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হাসপাতালের কর্মচারীদের দিয়ে মারধর করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট মহল, রোগী-স্বজন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ঢাকা বিভাগের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৩ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে।

অভিযোগকারী মো. উবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস বাছেদের ছেলে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। তিনি জেলা শহরের গাইটাল শ্রীনগর এলাকার বাসিন্দা এবং শহরে ব্যক্তিগতভাবে একটি স্কিন ও লেজার কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করেন।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক উপস্থিত না হওয়ায় তিনি অপেক্ষমাণ রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের সহকারী ভিডিও ধারণের বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে আসেন। এরপর উবায়দুল্লাহকে তার কক্ষে ডাকা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি কক্ষে প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।

উবায়দুল্লাহর অভিযোগ, চিকিৎসক প্রথমে তার পরিচয় জানতে চান এবং কেন ভিডিও ধারণ করেছেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি এতে আপত্তি জানালে চিকিৎসকের নির্দেশে কয়েকজন হাসপাতাল কর্মচারী তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় চিকিৎসক নিজেও তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তার অসুস্থ স্ত্রী ও কোলে থাকা আট মাস বয়সী শিশুসন্তান ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। কক্ষের বাইরে থাকা রোগী ও স্বজনরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, হঠাৎ করে কক্ষের ভেতর থেকে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পান তারা। দরজা বন্ধ থাকায় বাইরে অপেক্ষমাণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর দরজা খোলা হলে একজন ব্যক্তিকে অত্যন্ত উত্তেজিত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় কক্ষ থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ও চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলা করে রোগীদের ব্যক্তিগত চেম্বারে পাঠানোর অভিযোগও অতীতে একাধিকবার উঠেছে।

বৈষম্যবরোধী আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াজ ইবনে জসিম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে যদি সাধারণ মানুষ এভাবে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়, তাহলে মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে? আমরা চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে ডা. ইসরাত জাহান মৌ সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অভিযোগকারী হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক আমার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি প্রথমে আমার সহকারীকে এবং পরে আমাকেও ধাক্কা দেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা মারধর, কলার ধরা কিংবা গলা চেপে ধরার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ঘটনায় তিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত পাল্টা অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানান।

অন্যদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক) ডা. নূর মো. শামসুল আলম বলেন, “রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং অভিযোগকারী চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং তার ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন।”

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ থানায় এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসকও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, “বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ঢাকা বিভাগের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নরসিংদীর সিভিল সার্জন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন মেডিকেল অফিসার। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাকে ঘিরে এখন পুরো জেলার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষ, রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Kishoreganj Press

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


রোগীর স্বজনকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হাসপাতালের কর্মচারীদের দিয়ে মারধর করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট মহল, রোগী-স্বজন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ঢাকা বিভাগের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৩ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে।

অভিযোগকারী মো. উবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস বাছেদের ছেলে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। তিনি জেলা শহরের গাইটাল শ্রীনগর এলাকার বাসিন্দা এবং শহরে ব্যক্তিগতভাবে একটি স্কিন ও লেজার কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করেন।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক উপস্থিত না হওয়ায় তিনি অপেক্ষমাণ রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের সহকারী ভিডিও ধারণের বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে আসেন। এরপর উবায়দুল্লাহকে তার কক্ষে ডাকা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি কক্ষে প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।

উবায়দুল্লাহর অভিযোগ, চিকিৎসক প্রথমে তার পরিচয় জানতে চান এবং কেন ভিডিও ধারণ করেছেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি এতে আপত্তি জানালে চিকিৎসকের নির্দেশে কয়েকজন হাসপাতাল কর্মচারী তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় চিকিৎসক নিজেও তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় তার অসুস্থ স্ত্রী ও কোলে থাকা আট মাস বয়সী শিশুসন্তান ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। কক্ষের বাইরে থাকা রোগী ও স্বজনরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, হঠাৎ করে কক্ষের ভেতর থেকে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পান তারা। দরজা বন্ধ থাকায় বাইরে অপেক্ষমাণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর দরজা খোলা হলে একজন ব্যক্তিকে অত্যন্ত উত্তেজিত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় কক্ষ থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ও চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলা করে রোগীদের ব্যক্তিগত চেম্বারে পাঠানোর অভিযোগও অতীতে একাধিকবার উঠেছে।

বৈষম্যবরোধী আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াজ ইবনে জসিম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে এসে যদি সাধারণ মানুষ এভাবে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়, তাহলে মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে? আমরা চাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে ডা. ইসরাত জাহান মৌ সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অভিযোগকারী হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক আমার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি প্রথমে আমার সহকারীকে এবং পরে আমাকেও ধাক্কা দেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা মারধর, কলার ধরা কিংবা গলা চেপে ধরার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ঘটনায় তিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত পাল্টা অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানান।

অন্যদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক) ডা. নূর মো. শামসুল আলম বলেন, “রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং অভিযোগকারী চিকিৎসকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং তার ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন।”

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ থানায় এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসকও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, “বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ঢাকা বিভাগের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নরসিংদীর সিভিল সার্জন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন মেডিকেল অফিসার। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাকে ঘিরে এখন পুরো জেলার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষ, রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Kishoreganj Press

চেয়ারম্যান: শফিকুল আলম শিপলু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
রোগীর স্বজনকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি
0:00 / 0:00
1x