Kishoreganj Press

হাঁটু পানি মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা



হাঁটু পানি মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ১২৪নং হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মাঠটিতে হাঁটু পানি জমে আছে। এ পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। 

জানা গেছে, উপজেলার ১২৪নং হোসেন্দী ইউনিয়নের হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। ২০১৩সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। বিদ্যালয় মাঠটি নিচু হওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছরই এ মৌসুমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। এই পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনেক অভিভাবককে শিশু শিক্ষার্থীদেও কাঁধে কিংবা কোলে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে দেখা গেছে। 

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিদ্যালয়টি পড়ালেখার মান খুবই ভালো। নিয়মিত বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা পাঠদান করে আসছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও সন্তোষজনক। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টিতে যেতে কোনো রাস্তা ছিলো না। এক বছর আগে ইদ্রিস আলী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বিদ্যালয়টিতে আসা-যাওয়ার জন্য তার জমি ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দেন। বিদ্যালয়টির রাস্তার ব্যবস্থা হলেও নিচু মাঠ ভরাটের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মাঠ ও রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। 

ইদ্রিস আলী নামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিদ্যালয় মাঠে হাঁটু পানি। ছোট বাচ্চা এই পানি দিয়ে স্কুলে যেতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে তাকে কাঁধে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছি। 

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো.মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমার সন্তান এই বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আল-আমিন বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পরে দীর্ঘদিন যাবত যাতায়াতের রাস্তা ছিলো না। গত অর্থবছরে স্থানীয় ইদ্রিস আলীর বাড়ির আঙিনা ব্যবহার করে সংকীর্ণ একটা রাস্তা ইউএনও স্যারের সহায়তায় তৈরি করা হলেও নিচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান নিচু হওয়ার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। আশেপাশে ফসলি জমি তলিয়ে থাকে ফলে স্কুলের আঙিনার পানি সরতে পারে না। অনেকবার মাঠে মাটি ভরাটের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আবেদন হোসেন বলেন, সারা উপজেলার যেসব স্কুলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় সেসব স্কুলে মাটি ভরাটের জন্য তালিকা তৈরি করে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ওই বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। জানা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। নতুন অর্থবছর কেবল শুরু হয়েছে। এই অর্থ বছরে প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জ-২(পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো.জালাল উদ্দিন বলেন, আমি সংসদে রয়েছি। ওই বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Kishoreganj Press

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


হাঁটু পানি মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ১২৪নং হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মাঠটিতে হাঁটু পানি জমে আছে। এ পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। 

জানা গেছে, উপজেলার ১২৪নং হোসেন্দী ইউনিয়নের হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। ২০১৩সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। বিদ্যালয় মাঠটি নিচু হওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছরই এ মৌসুমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। এই পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনেক অভিভাবককে শিশু শিক্ষার্থীদেও কাঁধে কিংবা কোলে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে দেখা গেছে। 

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিদ্যালয়টি পড়ালেখার মান খুবই ভালো। নিয়মিত বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা পাঠদান করে আসছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও সন্তোষজনক। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টিতে যেতে কোনো রাস্তা ছিলো না। এক বছর আগে ইদ্রিস আলী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বিদ্যালয়টিতে আসা-যাওয়ার জন্য তার জমি ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দেন। বিদ্যালয়টির রাস্তার ব্যবস্থা হলেও নিচু মাঠ ভরাটের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মাঠ ও রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। 

ইদ্রিস আলী নামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বিদ্যালয় মাঠে হাঁটু পানি। ছোট বাচ্চা এই পানি দিয়ে স্কুলে যেতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে তাকে কাঁধে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছি। 

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো.মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমার সন্তান এই বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আল-আমিন বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পরে দীর্ঘদিন যাবত যাতায়াতের রাস্তা ছিলো না। গত অর্থবছরে স্থানীয় ইদ্রিস আলীর বাড়ির আঙিনা ব্যবহার করে সংকীর্ণ একটা রাস্তা ইউএনও স্যারের সহায়তায় তৈরি করা হলেও নিচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান নিচু হওয়ার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। আশেপাশে ফসলি জমি তলিয়ে থাকে ফলে স্কুলের আঙিনার পানি সরতে পারে না। অনেকবার মাঠে মাটি ভরাটের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আবেদন হোসেন বলেন, সারা উপজেলার যেসব স্কুলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় সেসব স্কুলে মাটি ভরাটের জন্য তালিকা তৈরি করে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ওই বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। জানা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। নতুন অর্থবছর কেবল শুরু হয়েছে। এই অর্থ বছরে প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জ-২(পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো.জালাল উদ্দিন বলেন, আমি সংসদে রয়েছি। ওই বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


Kishoreganj Press

চেয়ারম্যান: শফিকুল আলম শিপলু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
হাঁটু পানি মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
0:00 / 0:00
1x