Kishoreganj Press

মিথ্যা মামলায় ৪ মাস জেলে ঠিকাদার

কুলিয়ারচরে দুই বছর আগে খুনের পর গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার



কুলিয়ারচরে দুই বছর আগে খুনের পর গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর নিজের অপহরণ, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মাকে দিয়ে মামলা করানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ওই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে চার মাস কারাভোগ করেন এক ঠিকাদার। পরে পুলিশের তদন্তে গাজীপুর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ‘নিখোঁজ’ দেখানো যুবককে।

উদ্ধার হওয়া মো. মোস্তফা কামাল (২৮) ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তাঁর পরিবার কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করছে। মামলার ভুক্তভোগী জামান মিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মোস্তফা কামাল পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং জামান মিয়া একজন ঠিকাদার। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন ছিল। একপর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য জামান মিয়া একসময় মোস্তফা কামালকে পিরিজপুরে নিয়ে গিয়ে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। এরপর মোস্তফা কামাল বাড়ি না ফিরে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর মা মনোয়ারা বেগম আদালতে অপহরণের পর হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় মামলা রেকর্ড হলে প্রধান আসামি হিসেবে জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি প্রায় চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল হক জানান, তদন্ত চলাকালে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই রাত ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন এবং বিয়ে করে বসবাস করছিলেন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে তারা এ বিষয়ে পুলিশকে কোনো তথ্য দেননি।

ভুক্তভোগী জামান মিয়া বলেন, “মোস্তফা কামালের সঙ্গে আমার প্রায় চার লাখ টাকার লেনদেন ছিল। টাকা চাইলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাঁর মা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুমের মামলা করেন। আমি বিনা দোষে চার মাস কারাভোগ করেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার চাই।”

এ বিষয়ে মোস্তফা কামাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গুমের অভিযোগে নিখোঁজ দেখানো যুবকটি আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Kishoreganj Press

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


কুলিয়ারচরে দুই বছর আগে খুনের পর গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর নিজের অপহরণ, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মাকে দিয়ে মামলা করানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ওই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে চার মাস কারাভোগ করেন এক ঠিকাদার। পরে পুলিশের তদন্তে গাজীপুর থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ‘নিখোঁজ’ দেখানো যুবককে।

উদ্ধার হওয়া মো. মোস্তফা কামাল (২৮) ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তাঁর পরিবার কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করছে। মামলার ভুক্তভোগী জামান মিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মোস্তফা কামাল পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং জামান মিয়া একজন ঠিকাদার। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন ছিল। একপর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য জামান মিয়া একসময় মোস্তফা কামালকে পিরিজপুরে নিয়ে গিয়ে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। এরপর মোস্তফা কামাল বাড়ি না ফিরে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁর মা মনোয়ারা বেগম আদালতে অপহরণের পর হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে একটি পিটিশন মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় মামলা রেকর্ড হলে প্রধান আসামি হিসেবে জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি প্রায় চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল হক জানান, তদন্ত চলাকালে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই রাত ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন এবং বিয়ে করে বসবাস করছিলেন।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে তারা এ বিষয়ে পুলিশকে কোনো তথ্য দেননি।

ভুক্তভোগী জামান মিয়া বলেন, “মোস্তফা কামালের সঙ্গে আমার প্রায় চার লাখ টাকার লেনদেন ছিল। টাকা চাইলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাঁর মা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুমের মামলা করেন। আমি বিনা দোষে চার মাস কারাভোগ করেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার চাই।”

এ বিষয়ে মোস্তফা কামাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গুমের অভিযোগে নিখোঁজ দেখানো যুবকটি আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।


Kishoreganj Press

চেয়ারম্যান: শফিকুল আলম শিপলু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
কুলিয়ারচরে দুই বছর আগে খুনের পর গুম হওয়া যুবক জীবিত উদ্ধার
0:00 / 0:00
1x