কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মসজিদ পরিচালনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কথিত মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কিরাটন ইউনিয়নের লাখপুর গাংপাড়া এলাকার আজিমের বাজার জামে মসজিদের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, লাখপুর গাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. বাদল মিয়া ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। তাদের দাবি, বাদল মিয়া আদালতের মুহুরি হিসেবে কাজ করার সুযোগ নিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন মহসিন আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় আট বছর ধরে বাদল মিয়া ও তার ভাই কাঞ্চন নিজেদের গঠিত কমিটির মাধ্যমে এককভাবে মসজিদ পরিচালনা করছেন। এলাকাবাসী মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত আট থেকে ১০ বছরে মসজিদের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি মসজিদ ও মাদ্রাসা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য কমিটির মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান।
মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা মহসিন আলম বলেন, দীর্ঘদিন তাকে বিনা বেতনে ইমামতি করতে বাধ্য করা হয়েছে। বেতন দাবি করায় তিনি অপমান ও হয়রানির শিকার হন। একইভাবে তার আগের কয়েকজন ইমামও একই ধরনের আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, মসজিদের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তার নামে প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে।
মসজিদের মোতাওয়াল্লি মতিউর রহমান বলেন, "বাদল মিয়া ও কাঞ্চন জোরপূর্বক মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। আমরা চাই, মসজিদটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না থেকে সবার অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হোক। একই সঙ্গে সবাই যেন নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন এবং মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
বক্তারা আরও বলেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে নিরীহ মানুষকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. বাদল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মসজিদটি তাদের বংশীয় ওয়াকফকৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত এবং আইন অনুযায়ী জমিদাতার উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ভাই বাদল মিয়া সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদের উন্নয়নে তাদের পরিবারেরই সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে।
মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, বরং বিরোধী পক্ষই বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি পক্ষ মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে তারা কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, "আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা বলেন, "আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মসজিদ পরিচালনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কথিত মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কিরাটন ইউনিয়নের লাখপুর গাংপাড়া এলাকার আজিমের বাজার জামে মসজিদের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, লাখপুর গাংপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. বাদল মিয়া ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। তাদের দাবি, বাদল মিয়া আদালতের মুহুরি হিসেবে কাজ করার সুযোগ নিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন মহসিন আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় আট বছর ধরে বাদল মিয়া ও তার ভাই কাঞ্চন নিজেদের গঠিত কমিটির মাধ্যমে এককভাবে মসজিদ পরিচালনা করছেন। এলাকাবাসী মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত আট থেকে ১০ বছরে মসজিদের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি মসজিদ ও মাদ্রাসা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য কমিটির মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান।
মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা মহসিন আলম বলেন, দীর্ঘদিন তাকে বিনা বেতনে ইমামতি করতে বাধ্য করা হয়েছে। বেতন দাবি করায় তিনি অপমান ও হয়রানির শিকার হন। একইভাবে তার আগের কয়েকজন ইমামও একই ধরনের আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, মসজিদের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তার নামে প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে।
মসজিদের মোতাওয়াল্লি মতিউর রহমান বলেন, "বাদল মিয়া ও কাঞ্চন জোরপূর্বক মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। আমরা চাই, মসজিদটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না থেকে সবার অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হোক। একই সঙ্গে সবাই যেন নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন এবং মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
বক্তারা আরও বলেন, মসজিদকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে নিরীহ মানুষকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. বাদল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম কাঞ্চন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মসজিদটি তাদের বংশীয় ওয়াকফকৃত জমিতে প্রতিষ্ঠিত এবং আইন অনুযায়ী জমিদাতার উত্তরাধিকারী হিসেবে তার ভাই বাদল মিয়া সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদের উন্নয়নে তাদের পরিবারেরই সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে।
মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, বরং বিরোধী পক্ষই বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি পক্ষ মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে তারা কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন এবং মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, "আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা বলেন, "আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন