Kishoreganj Press

হোসেনপুরে চাকরি ছেড়ে শত নারীর ভাগ্যবদল করলেন প্রীতি



হোসেনপুরে চাকরি ছেড়ে শত নারীর ভাগ্যবদল করলেন প্রীতি

সরকারি চাকরির নিশ্চিত আরাম-আয়েশ আর চেনা গণ্ডি পেরিয়ে মাটি ও মানুষের টানে গ্রামে ফিরেছিলেন সামিয়া নাছরিন প্রীতি। লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং অবহেলিত গ্রামীণ নারীদের জন্য কিছু করা। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তেই আজ বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ধূলজুরী এলাকার শত শত হতদরিদ্র নারীর জীবনচিত্র। প্রীতির ছোঁয়ায় গ্রামীণ নারীদের ভাগ্য এখন বোনা হচ্ছে সুই-সুতার ফোঁড়ে।

২০২৪ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও একক প্রচেষ্টায় সামিয়া নাছরিন প্রীতি গড়ে তোলেন ‘নকশীকাঁথা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা’। কেবল একটি সংস্থা নয়, সময়ের ব্যবধানে এর চারপাশে ডালপালা মেলেছে একাধিক স্বপ্নের ভিত। এই সংস্থার ব্যানারে এখন নকশীকাঁথা তৈরির পাশাপাশি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘উদ্যোমী মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড’, পাট হস্তশিল্প, মাশরুম চাষ এবং মৎস্য খামার।

উদ্যোক্তা সামিয়া নাছরিন প্রীতি বলেন—"আরামের চাকরি ছেড়েছি কারণ মাটির মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। মাত্র ১০ জন অসহায় নারী নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, আজ আমার সাথে ১৪০ জন নারী যুক্ত আছেন। ঘরে বসেই হাতের কাজ শিখে আজ তারা স্বাবলম্বী।"

সরেজমিনে ধূলজুরী কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কাজের সাথেই জড়িয়ে আছে এলাকার নারীদের কর্মসংস্থানের গল্প। একসময় অলস সময় পার করা নারীরা এখন নকশীকাঁথায় ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক হাল ধরছেন। প্রতিষ্ঠানটি এখন হোসেনপুর উপজেলায় নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রীতি বলেন, "ইচ্ছে আছে আগামীতে এই কাজের পরিধি আরও বড় করার, যাতে এলাকার কোনো নারী নিজেকে অসহায় না ভাবেন। তবে শুধু নিজের চেষ্টায় এত বড় উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা বেশ কঠিন। আমি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। সরকারি কোনো সংস্থা বা ব্যাংক যদি সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে পাশে দাঁড়ায়, তবে হোসেনপুরের আরও শত শত নারীর মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।"

নকশীকাঁথার প্রতিটি ফোঁড়ে যেমন জড়িয়ে আছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, তেমনি মিশে আছে সামিয়া নাছরিন প্রীতির আত্মত্যাগ ও সাহসের গল্প। হোসেনপুরের মানুষ এখন প্রীতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং এর প্রসারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন

Kishoreganj Press

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


হোসেনপুরে চাকরি ছেড়ে শত নারীর ভাগ্যবদল করলেন প্রীতি

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরির নিশ্চিত আরাম-আয়েশ আর চেনা গণ্ডি পেরিয়ে মাটি ও মানুষের টানে গ্রামে ফিরেছিলেন সামিয়া নাছরিন প্রীতি। লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং অবহেলিত গ্রামীণ নারীদের জন্য কিছু করা। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তেই আজ বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ধূলজুরী এলাকার শত শত হতদরিদ্র নারীর জীবনচিত্র। প্রীতির ছোঁয়ায় গ্রামীণ নারীদের ভাগ্য এখন বোনা হচ্ছে সুই-সুতার ফোঁড়ে।

২০২৪ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও একক প্রচেষ্টায় সামিয়া নাছরিন প্রীতি গড়ে তোলেন ‘নকশীকাঁথা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা’। কেবল একটি সংস্থা নয়, সময়ের ব্যবধানে এর চারপাশে ডালপালা মেলেছে একাধিক স্বপ্নের ভিত। এই সংস্থার ব্যানারে এখন নকশীকাঁথা তৈরির পাশাপাশি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘উদ্যোমী মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড’, পাট হস্তশিল্প, মাশরুম চাষ এবং মৎস্য খামার।

উদ্যোক্তা সামিয়া নাছরিন প্রীতি বলেন—"আরামের চাকরি ছেড়েছি কারণ মাটির মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। মাত্র ১০ জন অসহায় নারী নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, আজ আমার সাথে ১৪০ জন নারী যুক্ত আছেন। ঘরে বসেই হাতের কাজ শিখে আজ তারা স্বাবলম্বী।"

সরেজমিনে ধূলজুরী কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কাজের সাথেই জড়িয়ে আছে এলাকার নারীদের কর্মসংস্থানের গল্প। একসময় অলস সময় পার করা নারীরা এখন নকশীকাঁথায় ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক হাল ধরছেন। প্রতিষ্ঠানটি এখন হোসেনপুর উপজেলায় নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রীতি বলেন, "ইচ্ছে আছে আগামীতে এই কাজের পরিধি আরও বড় করার, যাতে এলাকার কোনো নারী নিজেকে অসহায় না ভাবেন। তবে শুধু নিজের চেষ্টায় এত বড় উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা বেশ কঠিন। আমি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। সরকারি কোনো সংস্থা বা ব্যাংক যদি সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে পাশে দাঁড়ায়, তবে হোসেনপুরের আরও শত শত নারীর মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।"

নকশীকাঁথার প্রতিটি ফোঁড়ে যেমন জড়িয়ে আছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, তেমনি মিশে আছে সামিয়া নাছরিন প্রীতির আত্মত্যাগ ও সাহসের গল্প। হোসেনপুরের মানুষ এখন প্রীতির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে এবং এর প্রসারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি তুলছে।


Kishoreganj Press

চেয়ারম্যান: শফিকুল আলম শিপলু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
হোসেনপুরে চাকরি ছেড়ে শত নারীর ভাগ্যবদল করলেন প্রীতি
0:00 / 0:00
1x