কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা এই সড়কের কারণে দুই ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
এই সড়ক ব্যবহার করে একটি আলিম মাদ্রাসা ও পরীক্ষা কেন্দ্র, একটি বালিকা মাদ্রাসা, সরকারি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তবে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, খারাপ রাস্তার কারণে ব্যবসায় মারাত্মক মন্দা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এই সড়কে দায়সারাভাবে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ফলে কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারও সৃষ্টি হয় বড় বড় খানাখন্দ। তাদের দাবি, টেকসই উন্নয়নের জন্য পিচের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাই করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। পাশাপাশি নরসিংদীর মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। কটিয়াদী মডেল থানার সামনে থেকে লোহাজুরী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বড় অংশই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময়েও পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সড়কের বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, কখনো কখনো যানবাহন উল্টেও যাচ্ছে। হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে গিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই সড়কের ঝাঁকুনির কারণে প্রসূতি রোগীর নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধসংলগ্ন চালের মিল এলাকা থেকে থানা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ইট ও বালুবাহী ট্রাক্টরের অতিরিক্ত চলাচলেও দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কের জায়গা দখল করে বাড়িঘর ও দোকানের বারান্দা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
জালালপুরের ফেকামারা গ্রামের বাসিন্দা মানিক বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে আমাদের চরম কষ্ট হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে টেকসই কাজ হয় না। বছর না ঘুরতেই আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। আরসিসি ঢালাই করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”
ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, “খারাপ রাস্তার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। বৃষ্টি হলে গাড়ির চাকায় ছিটকে পানি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।”
শিক্ষার্থী মনির হোসেন, ফাহিম ও সবুজসহ কয়েকজন বলেন, “কলেজে যেতে গিয়ে জামাকাপড় কাদাপানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এইচএসসি পরীক্ষা চলছে, কিন্তু সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
অটোরিকশাচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, “২০ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন ৪০ মিনিট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন পরপর গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, আবার অনেক সময় গাড়ি উল্টেও যায়।”
লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের অবস্থাও একই। কটিয়াদীতে যেতে হলে মনে ভয় কাজ করে। এই সড়কে বের হওয়ার আগে দোয়া-দরুদ পড়ে বের হতে হয়।”
কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক বলেন, “আমি সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করেছি। মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে অবগত আছি। এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা এই সড়কের কারণে দুই ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
এই সড়ক ব্যবহার করে একটি আলিম মাদ্রাসা ও পরীক্ষা কেন্দ্র, একটি বালিকা মাদ্রাসা, সরকারি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তবে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, খারাপ রাস্তার কারণে ব্যবসায় মারাত্মক মন্দা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এই সড়কে দায়সারাভাবে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ফলে কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারও সৃষ্টি হয় বড় বড় খানাখন্দ। তাদের দাবি, টেকসই উন্নয়নের জন্য পিচের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাই করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। পাশাপাশি নরসিংদীর মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। কটিয়াদী মডেল থানার সামনে থেকে লোহাজুরী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বড় অংশই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময়েও পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সড়কের বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, কখনো কখনো যানবাহন উল্টেও যাচ্ছে। হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে গিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই সড়কের ঝাঁকুনির কারণে প্রসূতি রোগীর নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধসংলগ্ন চালের মিল এলাকা থেকে থানা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ইট ও বালুবাহী ট্রাক্টরের অতিরিক্ত চলাচলেও দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কের জায়গা দখল করে বাড়িঘর ও দোকানের বারান্দা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
জালালপুরের ফেকামারা গ্রামের বাসিন্দা মানিক বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে আমাদের চরম কষ্ট হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে টেকসই কাজ হয় না। বছর না ঘুরতেই আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। আরসিসি ঢালাই করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”
ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, “খারাপ রাস্তার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। বৃষ্টি হলে গাড়ির চাকায় ছিটকে পানি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।”
শিক্ষার্থী মনির হোসেন, ফাহিম ও সবুজসহ কয়েকজন বলেন, “কলেজে যেতে গিয়ে জামাকাপড় কাদাপানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এইচএসসি পরীক্ষা চলছে, কিন্তু সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
অটোরিকশাচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, “২০ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন ৪০ মিনিট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন পরপর গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, আবার অনেক সময় গাড়ি উল্টেও যায়।”
লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের অবস্থাও একই। কটিয়াদীতে যেতে হলে মনে ভয় কাজ করে। এই সড়কে বের হওয়ার আগে দোয়া-দরুদ পড়ে বের হতে হয়।”
কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক বলেন, “আমি সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করেছি। মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে অবগত আছি। এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন