মিঠামইন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ
সদস্য অ্যাডভোকেট
ফজলুর রহমান বলেন, আপনাদের প্রশ্নের উত্তরটা দেওয়া এখন বড় কঠিন। কিন্তু
একটা কথা আমি বলতে চাই, আজকে বলতে পারি আমার সন্তান, সে আমার সন্তানের
মত ছিল। সে একজন হতভাগা
রাজনৈতিক কর্মী, নেতা। মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিল। জীবন-যৌবন সবকিছু রাজনীতির জন্য গিয়ে দিয়েছে। গত ১৫ বছর
হাসিনা স্বৈরাচারী সরকার এবং এলাকার সেই ফ্যাসিস্ট হামিদ, আব্দুল হামিদ শক্তির বিরুদ্ধে সে টোটাল ফাইট
করে গিয়েছে। একদিনের জন্যও মাথা নত করে নাই।
কিশোরগঞ্জের মিঠামেইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ড
নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, আপনাদের প্রশ্নের উত্তরটা দেওয়া এখন বড় কঠিন। কিন্তু
একটা কথা আমি বলতে চাই, আজকে বলতে পারি আমার সন্তান, জাহাঙ্গীর আমার সন্তানের মত ছিল। সে
একজন হতভাগা রাজনৈতিক কর্মী, নেতা। ইটনা-মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিল। জীবন-যৌবন সবকিছু রাজনীতির জন্য দিয়ে দিয়েছে। গত ১৫ বছর
হাসিনা স্বৈরাচারী সরকার এবং এলাকার সেই ফ্যাসিস্ট হামিদ, আব্দুল হামিদ শক্তির বিরুদ্ধে সে টোটাল ফাইট
করে গিয়েছে। একদিনের জন্য মাথা নত করে নাই।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬
জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, সেই
জাহাঙ্গীর, যে জাহাঙ্গীর অনেকেই
চলে গিয়েছিল কিন্তু মিঠামইন সদরে থেকেও সে মাথা উঁচু
করে শহীদ জিয়ার রাজনীতি, তারেক জিয়ার নেতৃত্ব, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে মেনে রাজনীতি করেছে। একটা পর্যায়ে কেন জানি সে একটা ষড়যন্ত্রের
শিকার হয়ে গেল। কথাটা আমি কেন্দ্রকে বললাম যে সে হলো
ষড়যন্ত্রের শিকার। সে কোনো কোনো
ধরনের অন্যায় করে নাই, গাছ সে কাটে নাই।
এটা ভিন্ন বিষয়, এটা দেখা যাবে মামলা এবং আদালতে।
তিনি
আরও বলেন, কিন্তু আজকে,
আমি বলছি সেই জাহাঙ্গীর সর্বক্ষণ মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত দলের কাজ করতো, আমার সঙ্গে কাজ করতো। আজকে মিঠামইন থানার ঢাকিতে আমার ডাকাত বিরোধী, ডাকাতি বিরোধী একটা প্রতিরোধ সমাবেশ ছিল। সেখানে জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। সেই অবস্থায় আমিও আজকে মিঠামইনেই যাওয়ার কথা ছিল ঢাকিতেও। কিন্তু আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছে। ষড়যন্ত্র করে, আমি ভাবতেই পারি না, এটা আমার ভাবনার অধিক যে কিভাবে হাওর
অঞ্চলের মত একটা শান্ত
এলাকাতে, এক নির্জন, নিভৃত
এলাকায়—যে হাওর অঞ্চলকে
বলা হয় শান্তির নীড়, সেইখানে ঢাকা থেকে এসে একদল লোক তাকে কিভাবে হত্যা করল!
ফজলুর
রহমান আরও বলেন, যদিও আজকে
আমি শান্ত মনে বলবো না, আমি আমার অশান্ত মনেই বলছি, আমি একটা ব্যাপারে পুলিশকে ধন্যবাদ দিব—এদেরকে ধরতে তারা সমর্থ হয়েছে। এখন পুলিশ এবং আসামি বা অপরাধীদের বক্তব্য
এবং তাদের কর্মকাণ্ড এবং তাদের ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে বুঝা যাবে কারা হত্যা করেছে, কারা হত্যার পিছনে ছিল, কারা হত্যাকাণ্ডে মদদ দিয়েছে। এই কথাটা আমাকে
দিয়ে আপনারা বলাতে পারবেন না কারণ আমি
তো জানি না কে তাকে
হত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বলব নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের পিছনে কারা। তবে একটা কথা আমি বলতে চাই আপনাকে, যত রাষ্ট্রপতি বলেন, ভগ্নিপতি বলেন, অমুক-তমুক যাই বলেন, জাহাঙ্গীরের মত একটা ছেলে মিঠামইনে আর জন্মগ্রহণ করবে বলে আমার মনে হয় না, তার মত একটা সাহসী ছেলে। আজকে তার জন্য আমি কালকে সারারাত ঘুমাতে পারি নাই। আমার আমার হৃদয়ের কান্না কোনদিন শেষ হবে না। তারপরও আমি বলতে চাই দেশের মানুষের কাছে, আমার দলের কাছে, আমি বলতে চাই আপনারা জিনিসটা ভালো করে লক্ষ্য করুক যাতে জাহাঙ্গীরের এই নির্মম এবং নিষ্ঠুর এবং এই চক্রান্তমূলক এবং ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়। যারা এর পিছনে আছে তাদেরকেই ধরেন, এটাই হলো আমার কথা।
এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টায় মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহাঙ্গীর ও তার সঙ্গী হাদিসের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় পুলিশ
অভিযান চালিয়ে ৩জনকে আটক করে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
মিঠামইন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ
সদস্য অ্যাডভোকেট
ফজলুর রহমান বলেন, আপনাদের প্রশ্নের উত্তরটা দেওয়া এখন বড় কঠিন। কিন্তু
একটা কথা আমি বলতে চাই, আজকে বলতে পারি আমার সন্তান, সে আমার সন্তানের
মত ছিল। সে একজন হতভাগা
রাজনৈতিক কর্মী, নেতা। মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিল। জীবন-যৌবন সবকিছু রাজনীতির জন্য গিয়ে দিয়েছে। গত ১৫ বছর
হাসিনা স্বৈরাচারী সরকার এবং এলাকার সেই ফ্যাসিস্ট হামিদ, আব্দুল হামিদ শক্তির বিরুদ্ধে সে টোটাল ফাইট
করে গিয়েছে। একদিনের জন্যও মাথা নত করে নাই।
কিশোরগঞ্জের মিঠামেইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ড
নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, আপনাদের প্রশ্নের উত্তরটা দেওয়া এখন বড় কঠিন। কিন্তু
একটা কথা আমি বলতে চাই, আজকে বলতে পারি আমার সন্তান, জাহাঙ্গীর আমার সন্তানের মত ছিল। সে
একজন হতভাগা রাজনৈতিক কর্মী, নেতা। ইটনা-মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিল। জীবন-যৌবন সবকিছু রাজনীতির জন্য দিয়ে দিয়েছে। গত ১৫ বছর
হাসিনা স্বৈরাচারী সরকার এবং এলাকার সেই ফ্যাসিস্ট হামিদ, আব্দুল হামিদ শক্তির বিরুদ্ধে সে টোটাল ফাইট
করে গিয়েছে। একদিনের জন্য মাথা নত করে নাই।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬
জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, সেই
জাহাঙ্গীর, যে জাহাঙ্গীর অনেকেই
চলে গিয়েছিল কিন্তু মিঠামইন সদরে থেকেও সে মাথা উঁচু
করে শহীদ জিয়ার রাজনীতি, তারেক জিয়ার নেতৃত্ব, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে মেনে রাজনীতি করেছে। একটা পর্যায়ে কেন জানি সে একটা ষড়যন্ত্রের
শিকার হয়ে গেল। কথাটা আমি কেন্দ্রকে বললাম যে সে হলো
ষড়যন্ত্রের শিকার। সে কোনো কোনো
ধরনের অন্যায় করে নাই, গাছ সে কাটে নাই।
এটা ভিন্ন বিষয়, এটা দেখা যাবে মামলা এবং আদালতে।
তিনি
আরও বলেন, কিন্তু আজকে,
আমি বলছি সেই জাহাঙ্গীর সর্বক্ষণ মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত দলের কাজ করতো, আমার সঙ্গে কাজ করতো। আজকে মিঠামইন থানার ঢাকিতে আমার ডাকাত বিরোধী, ডাকাতি বিরোধী একটা প্রতিরোধ সমাবেশ ছিল। সেখানে জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। সেই অবস্থায় আমিও আজকে মিঠামইনেই যাওয়ার কথা ছিল ঢাকিতেও। কিন্তু আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছে। ষড়যন্ত্র করে, আমি ভাবতেই পারি না, এটা আমার ভাবনার অধিক যে কিভাবে হাওর
অঞ্চলের মত একটা শান্ত
এলাকাতে, এক নির্জন, নিভৃত
এলাকায়—যে হাওর অঞ্চলকে
বলা হয় শান্তির নীড়, সেইখানে ঢাকা থেকে এসে একদল লোক তাকে কিভাবে হত্যা করল!
ফজলুর
রহমান আরও বলেন, যদিও আজকে
আমি শান্ত মনে বলবো না, আমি আমার অশান্ত মনেই বলছি, আমি একটা ব্যাপারে পুলিশকে ধন্যবাদ দিব—এদেরকে ধরতে তারা সমর্থ হয়েছে। এখন পুলিশ এবং আসামি বা অপরাধীদের বক্তব্য
এবং তাদের কর্মকাণ্ড এবং তাদের ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে বুঝা যাবে কারা হত্যা করেছে, কারা হত্যার পিছনে ছিল, কারা হত্যাকাণ্ডে মদদ দিয়েছে। এই কথাটা আমাকে
দিয়ে আপনারা বলাতে পারবেন না কারণ আমি
তো জানি না কে তাকে
হত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বলব নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডের পিছনে কারা। তবে একটা কথা আমি বলতে চাই আপনাকে, যত রাষ্ট্রপতি বলেন, ভগ্নিপতি বলেন, অমুক-তমুক যাই বলেন, জাহাঙ্গীরের মত একটা ছেলে মিঠামইনে আর জন্মগ্রহণ করবে বলে আমার মনে হয় না, তার মত একটা সাহসী ছেলে। আজকে তার জন্য আমি কালকে সারারাত ঘুমাতে পারি নাই। আমার আমার হৃদয়ের কান্না কোনদিন শেষ হবে না। তারপরও আমি বলতে চাই দেশের মানুষের কাছে, আমার দলের কাছে, আমি বলতে চাই আপনারা জিনিসটা ভালো করে লক্ষ্য করুক যাতে জাহাঙ্গীরের এই নির্মম এবং নিষ্ঠুর এবং এই চক্রান্তমূলক এবং ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়। যারা এর পিছনে আছে তাদেরকেই ধরেন, এটাই হলো আমার কথা।
এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে ১০টায় মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে জাহাঙ্গীর ও তার সঙ্গী হাদিসের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় পুলিশ
অভিযান চালিয়ে ৩জনকে আটক করে।

আপনার মতামত লিখুন