কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার চরপুমদী গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ রুবেলকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ও শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রার্থী হিসেবে তিনি জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, অভিভাবক এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রুবেল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন এবং এখন ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব হাতিয়ে নিতে চাইছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের সুদীর্ঘ শাসনামলে আবু হানিফ রুবেল ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় একচ্ছত্র সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুনের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল।
তথ্যপ্রমাণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে একই সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আবু হানিফ রুবেল। ছবিটির বাম দিক থেকে প্রথম কালো পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি আবু হানিফ রুবেল এবং তার ঠিক ডান পাশে (মাঝখানে বেগুনি রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত) দাঁড়িয়ে আছেন মশিউর রহমান হুমায়ুন। পেছনের দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সংবলিত ছবিটি তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাই জানান দিচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আবু হানিফ রুবেল আওয়ামী লীগের আমলে অনৈতিক সুবিধাভোগী এবং দলটির দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এখন নিজের রূপ পরিবর্তন করে তিনি হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ পদ ‘সভাপতি’ দখল করতে চাইছেন।
এ ব্যাপারে ৬ নং পুমদী ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি তেমন অবগত নই। তবে যদি কেউ আওয়ামী লীগ শাসনামলে সুবিধা ভোগ করে থাকে এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে ছবি থেকে থাকে, তবে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, যদি ফ্যাসিবাদের কারও সাথে তার সম্পৃক্ততার ছবি বা ফুটেজ পাওয়া যায়, তবে তার পক্ষে আমরা কেউ নই।
পুমদী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যতদূর আমি জানি, অভিযুক্ত রুবেল আওয়ামী শাসনামলে অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমানেও বিএনপি থেকে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগ সরাসরি করতেন কি না বা দলটিতে তার কোনো পদ ছিল কি না, সে ব্যাপারে আমার সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই।
একই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সে আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছে এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পরও সে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছে। আমরা আমাদের হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে একজন খাটি বিএনপি কর্মীকে চাই। যিনি গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামী অংশ নিয়েছিল পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিয়েছে এবং জনগণের পাশে থেকেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের দায়িত্বে আসতে দেওয়া হবে না। তারা অতি দ্রুত রুবেলের প্রার্থিতা বাতিল করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুসংহত রাখতে কোনো সৎ, যোগ্য ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন বিতর্কিত ব্যক্তির আগমন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তি যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার চরপুমদী গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ রুবেলকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ও শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রার্থী হিসেবে তিনি জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, অভিভাবক এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রুবেল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন এবং এখন ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব হাতিয়ে নিতে চাইছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের সুদীর্ঘ শাসনামলে আবু হানিফ রুবেল ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় একচ্ছত্র সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুনের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল।
তথ্যপ্রমাণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে একই সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আবু হানিফ রুবেল। ছবিটির বাম দিক থেকে প্রথম কালো পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি আবু হানিফ রুবেল এবং তার ঠিক ডান পাশে (মাঝখানে বেগুনি রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত) দাঁড়িয়ে আছেন মশিউর রহমান হুমায়ুন। পেছনের দেয়ালে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সংবলিত ছবিটি তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাই জানান দিচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আবু হানিফ রুবেল আওয়ামী লীগের আমলে অনৈতিক সুবিধাভোগী এবং দলটির দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এখন নিজের রূপ পরিবর্তন করে তিনি হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ পদ ‘সভাপতি’ দখল করতে চাইছেন।
এ ব্যাপারে ৬ নং পুমদী ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি তেমন অবগত নই। তবে যদি কেউ আওয়ামী লীগ শাসনামলে সুবিধা ভোগ করে থাকে এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে ছবি থেকে থাকে, তবে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, যদি ফ্যাসিবাদের কারও সাথে তার সম্পৃক্ততার ছবি বা ফুটেজ পাওয়া যায়, তবে তার পক্ষে আমরা কেউ নই।
পুমদী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যতদূর আমি জানি, অভিযুক্ত রুবেল আওয়ামী শাসনামলে অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমানেও বিএনপি থেকে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগ সরাসরি করতেন কি না বা দলটিতে তার কোনো পদ ছিল কি না, সে ব্যাপারে আমার সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই।
একই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সে আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছে এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পরও সে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছে। আমরা আমাদের হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে একজন খাটি বিএনপি কর্মীকে চাই। যিনি গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামী অংশ নিয়েছিল পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিয়েছে এবং জনগণের পাশে থেকেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের দায়িত্বে আসতে দেওয়া হবে না। তারা অতি দ্রুত রুবেলের প্রার্থিতা বাতিল করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুসংহত রাখতে কোনো সৎ, যোগ্য ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হাজী জালালউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন বিতর্কিত ব্যক্তির আগমন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তি যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন