Kishoreganj Press

ছেলে-বউ ঘরে, বৃদ্ধা মা পথে স্বামীর ভিটায় আশ্রয়ের অপেক্ষায় আনোয়ারা



ছেলে-বউ ঘরে, বৃদ্ধা মা পথে স্বামীর ভিটায় আশ্রয়ের অপেক্ষায় আনোয়ারা
ছবি - কিশোরগঞ্জ প্রেস

ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকে বসতঘরে। আর মা থাকার জায়গা না পেয়ে ঘুরে বেড়ান পথেঘাটে। শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ও নড়বড়ে ঘরে। একসময় যে বাড়িতে সবাই মিলেমিশে থাকতেন, আজ সেই বাড়িটাই যেন তাঁর কাছে বড্ড অচেনা। বুকে একরাশ হতাশা আর অসহায়ত্ব নিয়ে কাটছে তাঁর দিন। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা আর পশুপাখির শব্দের সঙ্গে যেন মিশে যায় তাঁর বুকের ভেতরের চাপা আর্তনাদ।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত ছদুর হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭৫)।

নিজ স্বামীর ভিটায় জীবনের শেষ সময়গুলো কাটানোর জন্য একটি ঘরের আশায় অসহায় এই বৃদ্ধা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কেউ যদি একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন—এটাই যেন এখন তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আনোয়ারা বেগমের স্বামী ছদুর হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে জয়নাল আবেদীনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন তিনি। পরে ছেলের বিয়ে হলে সংসারে নতুন সদস্য আসেন। ধীরে ধীরে ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগম নিজেই সংসার ছেড়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতে শুরু করেন।

থাকার মতো কোনো জায়গা না থাকায় পরে স্থানীয় একটি মসজিদসংলগ্ন পরিত্যক্ত ও নড়বড়ে ঘরে আশ্রয় নেন। এখনও রাত কাটান সেখানেই। এদিকে ছেলে প্রবাসে গিয়েও সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তাঁর সংসারে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ফলে পরিবারটিও এখন অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, “ছেলের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তার নিজের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়, সেখানে আমি এক ধরনের বোঝা। একটি ঘরে সবাই একসঙ্গে থাকাও সম্ভব হচ্ছিল না, তাই নিজেই বের হয়ে গেছি। সরকারি সহায়তা শুধু বয়স্ক ভাতা পাই। মানুষের কাছে চেয়ে খাই। কখনো খেতে পারি, কখনো উপোস থাকতে হয়। স্বামীর ভিটায় যদি একটি ঘর হতো, তাহলে জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে পারতাম।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “আনোয়ারা বেগমের জীবন খুবই কষ্টের মধ্যে কাটছে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কোনো স্বস্তি পাননি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে তাঁর কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতে পারে। বর্তমানে তিনি যে পরিত্যক্ত নড়বড়ে ঘরে থাকছেন, সেখানে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই।”


আপনার মতামত লিখুন

Kishoreganj Press

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


ছেলে-বউ ঘরে, বৃদ্ধা মা পথে স্বামীর ভিটায় আশ্রয়ের অপেক্ষায় আনোয়ারা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকে বসতঘরে। আর মা থাকার জায়গা না পেয়ে ঘুরে বেড়ান পথেঘাটে। শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ও নড়বড়ে ঘরে। একসময় যে বাড়িতে সবাই মিলেমিশে থাকতেন, আজ সেই বাড়িটাই যেন তাঁর কাছে বড্ড অচেনা। বুকে একরাশ হতাশা আর অসহায়ত্ব নিয়ে কাটছে তাঁর দিন। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা আর পশুপাখির শব্দের সঙ্গে যেন মিশে যায় তাঁর বুকের ভেতরের চাপা আর্তনাদ।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত ছদুর হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭৫)।

নিজ স্বামীর ভিটায় জীবনের শেষ সময়গুলো কাটানোর জন্য একটি ঘরের আশায় অসহায় এই বৃদ্ধা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কেউ যদি একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন—এটাই যেন এখন তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আনোয়ারা বেগমের স্বামী ছদুর হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে জয়নাল আবেদীনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন তিনি। পরে ছেলের বিয়ে হলে সংসারে নতুন সদস্য আসেন। ধীরে ধীরে ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগম নিজেই সংসার ছেড়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাতে শুরু করেন।

থাকার মতো কোনো জায়গা না থাকায় পরে স্থানীয় একটি মসজিদসংলগ্ন পরিত্যক্ত ও নড়বড়ে ঘরে আশ্রয় নেন। এখনও রাত কাটান সেখানেই। এদিকে ছেলে প্রবাসে গিয়েও সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তাঁর সংসারে স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ফলে পরিবারটিও এখন অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, “ছেলের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তার নিজের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়, সেখানে আমি এক ধরনের বোঝা। একটি ঘরে সবাই একসঙ্গে থাকাও সম্ভব হচ্ছিল না, তাই নিজেই বের হয়ে গেছি। সরকারি সহায়তা শুধু বয়স্ক ভাতা পাই। মানুষের কাছে চেয়ে খাই। কখনো খেতে পারি, কখনো উপোস থাকতে হয়। স্বামীর ভিটায় যদি একটি ঘর হতো, তাহলে জীবনের বাকি সময়টা শান্তিতে কাটাতে পারতাম।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “আনোয়ারা বেগমের জীবন খুবই কষ্টের মধ্যে কাটছে। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কোনো স্বস্তি পাননি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে তাঁর কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতে পারে। বর্তমানে তিনি যে পরিত্যক্ত নড়বড়ে ঘরে থাকছেন, সেখানে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই।”



Kishoreganj Press

চেয়ারম্যান: শফিকুল আলম শিপলু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ছেলে-বউ ঘরে, বৃদ্ধা মা পথে স্বামীর ভিটায় আশ্রয়ের অপেক্ষায় আনোয়ারা
0:00 / 0:00
1x