ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনার নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বিশ্বকাপের ৩টি সেনালী তারকা। দিয়েগো মেরাডোনার ঈশ্বর প্রদত্ত বা পায়ের যাদু কিংবা লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক সাফল্য কিন্তু এই তিন তারার প্রথমটি অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে জেতা আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফিটি কী শুধুই গৌরবের নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার, কলঙ্কিত আর রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এক অধ্যায়।
ফুটবল পন্ডিতদের বড় অংশই মনে করেন ১৯৭৮ সালের স্বাগতিক আর্জেন্টিনার সেই বিশ্বকাপ জয়টি ছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের এক নির্মম মঞ্চ।
কেন এই ট্রফিকে ফুটবলের অন্যতম কলঙ্কিত ট্রফি বলা হয় তার পেছনে রয়েছে কিছু কারণ ।
১৯৭৮ বিশ্বকাপের ঠিক ২বছর আগে ১৯৭৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল রাফায়েল বিদেলা। তার স্বৈরাচারী জান্তা সরকারের অধীনে আজেন্টিনায় শুরু হয় এক অন্ধকার অধ্যায়। যা ইতিহাসে ডার্টি ওয়ার নামে পরিচিত। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রায় ৩০হাজার মানুষকে গুম,খুন এবং নির্মম নির্যাতন করা হয়।
বিশ্ববাসীর চোখ থেকে নিজেদের এই নৃশংস মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতে এবং দেশের ভেতরে স্বৈরাচারী সরকারকে বৈধতা দিতে বিদেলা এ বিশ্বকাপকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে কল িঙ্কত এবং পাতানো ম্যাচ বলে ব্যাপকভাবে আলোচিত ম্যাচটি ছিল ২য় পর্বের আর্জেন্টিনা বনাম পেরুর লড়াই। ফাইনালে উঠতে হলে ব্রাজিলের চেয়ে গোল ব্যবধানে আর্জেন্টিনার সামনে লক্ষ্য ছিলো প্রায় অবাস্তব। পেরুকে হারাতে হলে অন্তত ৪গোলের বড় ব্যবধানে। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতেছিল ৬-শূন্য গোলের বড় ব্যবধানে। ম্যাচের পর থেকেই গুঞ্জন উঠে সামরিক জান্তা সরকার পর্দার আড়ালে পেরুর খেলোয়াড় ও সরকারকে বিপুল পরিমাণ গম উপহার এবং বিশাল আর্থিক সুবিধা দিয়ে ম্যাচটি কিনে নিয়েছিল। আরও রহস্যজনক বিষয় ছিল পেরুর গোলরক্ষক কুইরোগা ছিলে জন্মসূত্রে এক আর্জেন্টাইন। আরোও অবাক করার আর্জেন্টিনা যেন ফাইনাল খেলতে পারে সেই সুবিধার্থে স্বাগতিকদের ম্যাচের সময়সূচী বার বার পরিবর্তন করা হতো। যে কারণে ব্রাজিলের ম্যাচ আগে শেষ হতো যার ফলে আর্জেন্টিনা ঠিক-ঠাক জানতে পারতো পরবর্তী রাউন্ডে যেতে তাদের কত গোলে জিততে হবে। পুরো টূর্নামেন্টে ১টি ম্যাচেও না হেরে অর্থাৎ অপরাজিত থেকেও ব্রাজিল ফাইনাল খেলতে পারেনি। ব্রাজিল নিজেদের নৈতিক চ্যাম্পিয়ান দাবী করে তীব্র শোক প্রকাশ করেছিলো। পাশাপাশি টূর্নামেন্ট জুড়ে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারীদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের ফাউলে কার্ড না দেয়া এবং আর্জেন্টিনার সামান্য সুবিধার্থেও প্যানাল্টি বা ফ্রি কিক দেয়ার প্রবণতা রেফারীদের উপর জান্তা সরকারের পরোক্ষ চাপের প্রমাণ দেয়।
আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয় তাই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় একই সাথে ফুটবলীয় রোমাঞ্চকর এক অনন্য রুপকথা আবার ক্ষমতার লোভে ফুটবলকে বলী দেয়ার এক চরম ট্র্যাজিক দলিল।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনার নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বিশ্বকাপের ৩টি সেনালী তারকা। দিয়েগো মেরাডোনার ঈশ্বর প্রদত্ত বা পায়ের যাদু কিংবা লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক সাফল্য কিন্তু এই তিন তারার প্রথমটি অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে জেতা আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফিটি কী শুধুই গৌরবের নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার, কলঙ্কিত আর রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এক অধ্যায়।
ফুটবল পন্ডিতদের বড় অংশই মনে করেন ১৯৭৮ সালের স্বাগতিক আর্জেন্টিনার সেই বিশ্বকাপ জয়টি ছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের এক নির্মম মঞ্চ।
কেন এই ট্রফিকে ফুটবলের অন্যতম কলঙ্কিত ট্রফি বলা হয় তার পেছনে রয়েছে কিছু কারণ ।
১৯৭৮ বিশ্বকাপের ঠিক ২বছর আগে ১৯৭৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল রাফায়েল বিদেলা। তার স্বৈরাচারী জান্তা সরকারের অধীনে আজেন্টিনায় শুরু হয় এক অন্ধকার অধ্যায়। যা ইতিহাসে ডার্টি ওয়ার নামে পরিচিত। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রায় ৩০হাজার মানুষকে গুম,খুন এবং নির্মম নির্যাতন করা হয়।
বিশ্ববাসীর চোখ থেকে নিজেদের এই নৃশংস মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতে এবং দেশের ভেতরে স্বৈরাচারী সরকারকে বৈধতা দিতে বিদেলা এ বিশ্বকাপকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে কল িঙ্কত এবং পাতানো ম্যাচ বলে ব্যাপকভাবে আলোচিত ম্যাচটি ছিল ২য় পর্বের আর্জেন্টিনা বনাম পেরুর লড়াই। ফাইনালে উঠতে হলে ব্রাজিলের চেয়ে গোল ব্যবধানে আর্জেন্টিনার সামনে লক্ষ্য ছিলো প্রায় অবাস্তব। পেরুকে হারাতে হলে অন্তত ৪গোলের বড় ব্যবধানে। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতেছিল ৬-শূন্য গোলের বড় ব্যবধানে। ম্যাচের পর থেকেই গুঞ্জন উঠে সামরিক জান্তা সরকার পর্দার আড়ালে পেরুর খেলোয়াড় ও সরকারকে বিপুল পরিমাণ গম উপহার এবং বিশাল আর্থিক সুবিধা দিয়ে ম্যাচটি কিনে নিয়েছিল। আরও রহস্যজনক বিষয় ছিল পেরুর গোলরক্ষক কুইরোগা ছিলে জন্মসূত্রে এক আর্জেন্টাইন। আরোও অবাক করার আর্জেন্টিনা যেন ফাইনাল খেলতে পারে সেই সুবিধার্থে স্বাগতিকদের ম্যাচের সময়সূচী বার বার পরিবর্তন করা হতো। যে কারণে ব্রাজিলের ম্যাচ আগে শেষ হতো যার ফলে আর্জেন্টিনা ঠিক-ঠাক জানতে পারতো পরবর্তী রাউন্ডে যেতে তাদের কত গোলে জিততে হবে। পুরো টূর্নামেন্টে ১টি ম্যাচেও না হেরে অর্থাৎ অপরাজিত থেকেও ব্রাজিল ফাইনাল খেলতে পারেনি। ব্রাজিল নিজেদের নৈতিক চ্যাম্পিয়ান দাবী করে তীব্র শোক প্রকাশ করেছিলো। পাশাপাশি টূর্নামেন্ট জুড়ে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারীদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষের ফাউলে কার্ড না দেয়া এবং আর্জেন্টিনার সামান্য সুবিধার্থেও প্যানাল্টি বা ফ্রি কিক দেয়ার প্রবণতা রেফারীদের উপর জান্তা সরকারের পরোক্ষ চাপের প্রমাণ দেয়।
আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয় তাই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় একই সাথে ফুটবলীয় রোমাঞ্চকর এক অনন্য রুপকথা আবার ক্ষমতার লোভে ফুটবলকে বলী দেয়ার এক চরম ট্র্যাজিক দলিল।

আপনার মতামত লিখুন