Kishoreganj Press

জেলা শহরের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজ

দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ময়লার স্তূপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন



দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ময়লার স্তূপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

​কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

​দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সোমবার (২৯ জুন) সকালে কলেজের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশপাশের বাসাবাড়িতে গিয়ে কলেজের সামনে ময়লা না ফেলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ জানান।

​মানববন্ধনে কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। এ সময় তারা কলেজের সামনে দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণ, ভবিষ্যতে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

​শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​প্রতিদিন কলেজে আসার সময় এই অসহনীয় দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। গেটের সামনে আসলেই বমি বমি ভাব আসে, অনেক সময় শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে পড়তে আসি, কিন্তু কলেজের প্রবেশমুখেই যদি এমন নরককুণ্ড দেখতে হয়, তবে পড়ার মানসিকতা আর থাকে না। নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করায় এখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। আমরা কোনো আশ্বাস চাই না, দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।

​আরেক শিক্ষার্থী মুনতাহা তার বক্তব্যে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করে বলেন, একটি স্বনামধন্য নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটককে এভাবে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা চরম লজ্জাজনক। ডাস্টবিনের এই তীব্র দুর্গন্ধ শুধু রাস্তাতেই থাকে না, বাতাস ঘুরে আমাদের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত চলে আসে। ক্লাসে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করার কোনো উপায় নেই। অনেকেই এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পৌরসভার দায়িত্বহীনতা এবং স্থানীয়দের সচেতনতার অভাবে আমাদের শিক্ষা জীবন আজ হুমকির মুখে। অবিলম্বে এই ময়লার স্তূপ এখান থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোনে নেওয়া হোক।

​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের প্রধান ফটকের সামনেই স্থানীয় বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার ময়লার গাড়ি প্রতিদিন না এসে কয়েক দিন পরপর আসায় সেখানে বিশাল ময়লার ভাগাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্গন্ধে পুরো এলাকা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পথচারীদের চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

​তারা বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের নাক চেপে কলেজে প্রবেশ করতে হয়। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ ব্যাহত হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক, অস্বাস্থ্যকর এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। শিক্ষার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

​কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমা বেগম বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক।

​তিনি আরও জানান, এর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কলেজের সামনে ময়লা না ফেলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না মেলায় এবং পৌরসভার পক্ষ থেকেও নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আজ রাস্তায় নেমে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করেছেন।

​মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি কলেজের সামনে জমে থাকা ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে আগামীতে কলেজের ছাত্রীদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Kishoreganj Press

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ময়লার স্তূপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

​কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পৌর মহিলা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

​দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সোমবার (২৯ জুন) সকালে কলেজের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশপাশের বাসাবাড়িতে গিয়ে কলেজের সামনে ময়লা না ফেলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ জানান।

​মানববন্ধনে কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। এ সময় তারা কলেজের সামনে দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণ, ভবিষ্যতে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

​শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​প্রতিদিন কলেজে আসার সময় এই অসহনীয় দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। গেটের সামনে আসলেই বমি বমি ভাব আসে, অনেক সময় শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে পড়তে আসি, কিন্তু কলেজের প্রবেশমুখেই যদি এমন নরককুণ্ড দেখতে হয়, তবে পড়ার মানসিকতা আর থাকে না। নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করায় এখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। আমরা কোনো আশ্বাস চাই না, দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।

​আরেক শিক্ষার্থী মুনতাহা তার বক্তব্যে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করে বলেন, একটি স্বনামধন্য নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটককে এভাবে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা চরম লজ্জাজনক। ডাস্টবিনের এই তীব্র দুর্গন্ধ শুধু রাস্তাতেই থাকে না, বাতাস ঘুরে আমাদের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত চলে আসে। ক্লাসে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করার কোনো উপায় নেই। অনেকেই এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পৌরসভার দায়িত্বহীনতা এবং স্থানীয়দের সচেতনতার অভাবে আমাদের শিক্ষা জীবন আজ হুমকির মুখে। অবিলম্বে এই ময়লার স্তূপ এখান থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোনে নেওয়া হোক।

​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের প্রধান ফটকের সামনেই স্থানীয় বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার ময়লার গাড়ি প্রতিদিন না এসে কয়েক দিন পরপর আসায় সেখানে বিশাল ময়লার ভাগাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্গন্ধে পুরো এলাকা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পথচারীদের চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

​তারা বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের নাক চেপে কলেজে প্রবেশ করতে হয়। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ ব্যাহত হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক, অস্বাস্থ্যকর এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। শিক্ষার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

​কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমা বেগম বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক।

​তিনি আরও জানান, এর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কলেজের সামনে ময়লা না ফেলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না মেলায় এবং পৌরসভার পক্ষ থেকেও নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আজ রাস্তায় নেমে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করেছেন।

​মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি কলেজের সামনে জমে থাকা ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে আগামীতে কলেজের ছাত্রীদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


Kishoreganj Press

চেয়ারম্যান: শফিকুল আলম শিপলু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ময়লার স্তূপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন
0:00 / 0:00
1x