Kishoreganj Press

মামলার প্রস্তুতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের

রাতের আঁধারে পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ভাঙচুর, লুটপাট



কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভয়াবহ ভাঙচুর, লুটপাট এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী এই কার্যালয়ে হামলাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, পাকুন্দিয়া পৌরসদরের হাপানিয়া এলাকায় অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় এবং তার পাশের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয়টি। টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীরা কার্যালয়ে থাকা আলমারি, টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ভাঙচুর করে। এছাড়া বিদ্যুতের মিটার, ফ্যান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিপত্রও নিখোঁজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খান আগামীর সময়’কে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের একটি টিনশেড ঘর ছিল। সেই ঘরটি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়েও লুটপাট চালানো হয়েছে। আমি সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়ার অনুরোধ করছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভোরে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা এই ঘরটিকে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। এখানে আমাদের বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল। সেগুলো নিয়ে গেছে। চেয়ার, টেবিল, আলমারি ভেঙে ফেলা হয়েছে। টিভি, ফ্যান ও বিদ্যুতের মিটার পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। খুব দ্রুত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Kishoreganj Press

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


রাতের আঁধারে পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ভাঙচুর, লুটপাট

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভয়াবহ ভাঙচুর, লুটপাট এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী এই কার্যালয়ে হামলাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, পাকুন্দিয়া পৌরসদরের হাপানিয়া এলাকায় অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় এবং তার পাশের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয়টি। টিনশেড ঘরটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীরা কার্যালয়ে থাকা আলমারি, টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ভাঙচুর করে। এছাড়া বিদ্যুতের মিটার, ফ্যান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিপত্রও নিখোঁজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খান আগামীর সময়’কে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের একটি টিনশেড ঘর ছিল। সেই ঘরটি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়েও লুটপাট চালানো হয়েছে। আমি সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়ার অনুরোধ করছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভোরে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা এই ঘরটিকে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। এখানে আমাদের বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল। সেগুলো নিয়ে গেছে। চেয়ার, টেবিল, আলমারি ভেঙে ফেলা হয়েছে। টিভি, ফ্যান ও বিদ্যুতের মিটার পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। খুব দ্রুত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।


Kishoreganj Press

চেয়ারম্যান: শফিকুল আলম শিপলু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
রাতের আঁধারে পাকুন্দিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ভাঙচুর, লুটপাট
0:00 / 0:00
1x