বৈরী আবহাওয়া আর বজ্রপাতের ভয়াল থাবায় এক সন্ধ্যাতেই ঝরে গেল কিশোরগঞ্জের চারটি প্রাণ। নরসিংদীর মনোহরদীতে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক নৌকার মাঝি। পৃথক দুটি ঘটনায় জেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দী দক্ষিণপাড়া মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বজ্রপাতে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন শিক্ষার্থী।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সন্ধ্যায় মাদ্রাসার অজুখানায় অজু করার সময় চার শিক্ষার্থী বজ্রপাতে আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওরে বজ্রপাতে মারা যান নৌকার মাঝি বাবুল সরকার।
নিহত বাবুল সরকার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার নারাজ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে কয়েকজন যাত্রীকে নিয়ে নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে অন্য যাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য নৌকার পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন। কিন্তু মাঝি হিসেবে নৌকার হাল ছাড়তে না পারায় বাবুল সরকার নৌকার উপরের অংশেই অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে নৌকার অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখে যাত্রীরা উপরে উঠে তাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, বজ্রপাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
একই সন্ধ্যায় পৃথক দুটি ঘটনায় চারজনের প্রাণহানিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কিশোরগঞ্জজুড়ে। বিশেষ করে হোসেনপুরের তিন কিশোর শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় চলছে শোকের মাতম। সন্তান হারিয়ে আহাজারি করছেন স্বজনরা।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় ও হাওরাঞ্চলে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সচেতনতার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা জায়গা, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
বৈরী আবহাওয়া আর বজ্রপাতের ভয়াল থাবায় এক সন্ধ্যাতেই ঝরে গেল কিশোরগঞ্জের চারটি প্রাণ। নরসিংদীর মনোহরদীতে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক নৌকার মাঝি। পৃথক দুটি ঘটনায় জেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দী দক্ষিণপাড়া মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বজ্রপাতে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন শিক্ষার্থী।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সন্ধ্যায় মাদ্রাসার অজুখানায় অজু করার সময় চার শিক্ষার্থী বজ্রপাতে আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওরে বজ্রপাতে মারা যান নৌকার মাঝি বাবুল সরকার।
নিহত বাবুল সরকার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার নারাজ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে কয়েকজন যাত্রীকে নিয়ে নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে অন্য যাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য নৌকার পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন। কিন্তু মাঝি হিসেবে নৌকার হাল ছাড়তে না পারায় বাবুল সরকার নৌকার উপরের অংশেই অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে নৌকার অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখে যাত্রীরা উপরে উঠে তাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, বজ্রপাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
একই সন্ধ্যায় পৃথক দুটি ঘটনায় চারজনের প্রাণহানিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কিশোরগঞ্জজুড়ে। বিশেষ করে হোসেনপুরের তিন কিশোর শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় চলছে শোকের মাতম। সন্তান হারিয়ে আহাজারি করছেন স্বজনরা।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় ও হাওরাঞ্চলে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই সচেতনতার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা জায়গা, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন